কী লিখবেন পর্ব ৫
কী লিখবেন সিরিজ — পর্ব ৫
১। কী — লেখার ধারা (Style) বলতে কী বোঝায়?
লেখার ধারা হলো আপনার কণ্ঠস্বর — শব্দভঙ্গি, বাক্য গঠন, স্বর এবং পাঠকের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া। একই তথ্যই ভিন্ন ধারা–টোন-এ ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেয়। তাই উদ্দেশ্য অনুযায়ী ধারা নির্বাচন জরুরি।
২। প্রধান তিনটি ধারা — সংক্ষিপ্ত তুলনা
- প্রফেশনাল (Professional): পরিষ্কার, নির্ভরযোগ্য, নিরপেক্ষ। তথ্যভিত্তিক রিপোর্ট, টিউটোরিয়াল বা গাইডে উপযুক্ত।
- বন্ধুসুলভ (Conversational/Friendly): হালকা, সরাসরি, পাঠকের সঙ্গে কথা বলে — ব্লগ, সাক্ষাৎকার, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ারের ক্ষেত্রে ভাল।
- সাহিত্যিক (Literary): ছন্দ, রূপক, বিবরণীসমৃদ্ধ — ন্যারেটিভ, কবিতা ও গল্পে প্রয়োগ করা হয়।
প্রফেশনাল: “ফুলের ফলন ১০% বৃদ্ধি পেয়েছে; মাটি ও সেচ উন্নত করার ফলে এটি সম্ভব হয়েছে।”
বন্ধুসুলভ: “গত বছরে ফুল বেশি লেগেছে — মাটি ভালো করা আর একটু যত্ন দিলেই পারলাম!”
সাহিত্যিক: “বাগানের প্রতিটি কুঁড়ি এবার দু’চোখে হাসছে; মাটির মৃদু স্পর্শে জীবন ফিরে পেয়েছে।”
৩। কখন কোন ধারা ব্যবহার করবেন?
উদ্দেশ্য এবং পাঠক-দলের ওপর ভিত্তি করে ধারা বেছে নিন:
- তথ্য/শিক্ষা:** প্রফেশনাল — নির্ভুল শব্দ, রেফারেন্স, নম্বর, উদাহরণ।
- পাঠকসংযোগ:** বন্ধুসুলভ — গল্প, প্রশ্ন, সরল বাক্য।
- অনুভূতি/শিল্প:** সাহিত্যিক — রূপক, বর্ণনা, ছন্দ।
নোট: বহু লেখাই মিশ্র ধারা ব্যবহার করে — মূল বক্তব্য প্রফেশনাল রেখে শুরুতে বন্ধুসুলভ হুক ও শেষে সাহিত্যিক উপখ্যান যোগ করা যায়।
৪। একই বিষয় ভিন্ন উদ্দেশ্যে কিভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করবেন
- উদ্দেশ্য নির্ধারণ: শিক্ষা, প্রফিট, অনুপ্রেরণা বা বিনোদন—প্রথমে ঠিক করুন।
- পাঠক চিনুন: তাঁদের ভাষা ও শব্দভাণ্ডার কেমন—তাই শব্দচয়ন নির্ধারণ করুন।
- শিরোনাম ও প্রথম বাক্য ঠিক করুন: টোন ৫–১০০ শব্দে সেট করে দেয়।
শিক্ষা: “সময় ব্লকিং পদ্ধতি ব্যবহার করুন: প্রতিটি কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করুন এবং বিরতি শিডিউল করুন।”
অনুপ্রেরণা: “সময় যেনো আপনার মিত্র—প্রত্যেক সকালকে অধিকার করুন।”
ব্যবসা: “রিপোর্টিং-এ সময় কমাতে অটোমেশন লাগান — এতে ২০% উৎপাদন বাড়ে।”
৫। ভোকাবুলারি ও বাক্যচয়নের কৌশল
শব্দ নির্বাচন লেখার কার্যকারিতা নির্ধারণ করে। কিছু দ্রুত কৌশল:
- স্পষ্ট শব্দ বেছে নিন: জটিলতার বদলে নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করুন — “কার্যকর” বলুন “ভালো” নয়।
- পাঠকের স্তর মিলিয়ে ভোকাবুলারি বাড়ান: 전문 পাঠক হলে টেকনিক্যাল শব্দ দিন, সাধারণ পাঠক হলে সহজ শব্দ রাখুন।
- বিচিত্র বাক্য দৈর্ঘ্য রাখুন: ছোট বাক্য দ্রুততা বাড়ায়, বড় বাক্য ব্যাখ্যা দেয়।
- একাধিক অর্থবহ শব্দ (power words) — “অত্যাবশ্যক”, “চূড়ান্ত”, “গুরুত্বপূর্ণ” ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ব্যবহার করুন, কিন্তু অতি কম।
৬। ব্যবহারিক টিপস — দ্রুত প্রয়োগযোগ্য
- টোন শীট রাখুন: প্রতিটি পোস্টে ১-লাইন নোট—“টোন: বন্ধুসুলভ / প্রফেশনাল / সাহিত্যিক”।
- শিরোনাম ও সাবহেডিং ব্যবহার করুন: স্ক্যানিং পাঠকের জন্য এটি সবচেয়ে দরকারী।
- সম্পাদনা স্টেপগুলি আলাদা রাখুন: (১) কনটেন্ট, (২) টোন/স্টাইল, (৩) শব্দচয়ন।
- রিড-আউট করুন: টোন টিকে কিভাবে শোনা যায় তা বুঝতে নিজে পড়ে শুনুন।
৭। দ্রুত চেকলিস্ট (Post-ready)
- টোন কি লক্ষ্য অনুযায়ী সঠিক?
- শব্দগুলো কি পাঠকের স্তরের সাথে মিলছে?
- প্রারম্ভিক বাক্যে পাঠক আকৃষ্ট হচ্ছে কি?
- প্রতিটি অনুচ্ছেদ এক টি ধারণা বলছে কি?
পরবর্তী পর্বে: শব্দ নির্বাচন ও শব্দভাণ্ডার গঠন — অনুশীলন ও রিসোর্সসহ।
📚 কী লিখবেন – সিরিজ
- পর্ব ১: কী লিখবেন
- পর্ব ২: কেন লিখবেন
- পর্ব ৩: কোথায় কোন শব্দ বসাবেন
- পর্ব ৪: বাক্য গঠন
- পর্ব ৫: লেখার ধরণ
- পর্ব ৬: এডিটিং ও রিরাইটিং
- পর্ব ৭: প্যারাগ্রাফ ফ্লো
- পর্ব ৮: লেখার টোন ও পাঠকের সাথে সংযোগ
- পর্ব ৯: ছবি, উদাহরণ ও টেবিল ব্যবহারের কৌশল
- পর্ব ১০: ব্লগ পাবলিশ ও প্রমোশন স্ট্রাটেজি
✍️ সহযোগিতায় ChatGPT by OpenAI
|
নিতাই বাবু
পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক – ২০১৭। লেখালেখির শুরু শৈশবে, এখনো চলছে। 🌐 ব্লগ: নিতাই বাবু ব্লগ | জীবনের ঘটনা | চ্যাটজিপিটি ভাবনা |

Comments
Post a Comment