কী লিখবেন পর্ব ৫

 

লেখার ধারা ও স্টাইল — পর্ব ৫ | কী লিখবেন সিরিজ

কী লিখবেন সিরিজ — পর্ব ৫

বিষয়: লেখার ধারা ও স্টাইল — প্রফেশনাল, বন্ধুসুলভ, সাহিত্যিক; একই বিষয় ভিন্নভাবে উপস্থাপন; ভোকাবুলারি ও বাক্যচয়ন।  |  লেখক: নিতাই বাবু

১। কী — লেখার ধারা (Style) বলতে কী বোঝায়?

লেখার ধারা হলো আপনার কণ্ঠস্বর — শব্দভঙ্গি, বাক্য গঠন, স্বর এবং পাঠকের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া। একই তথ্যই ভিন্ন ধারা–টোন-এ ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেয়। তাই উদ্দেশ্য অনুযায়ী ধারা নির্বাচন জরুরি।

২। প্রধান তিনটি ধারা — সংক্ষিপ্ত তুলনা

  • প্রফেশনাল (Professional): পরিষ্কার, নির্ভরযোগ্য, নিরপেক্ষ। তথ্যভিত্তিক রিপোর্ট, টিউটোরিয়াল বা গাইডে উপযুক্ত।
  • বন্ধুসুলভ (Conversational/Friendly): হালকা, সরাসরি, পাঠকের সঙ্গে কথা বলে — ব্লগ, সাক্ষাৎকার, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ারের ক্ষেত্রে ভাল।
  • সাহিত্যিক (Literary): ছন্দ, রূপক, বিবরণীসমৃদ্ধ — ন্যারেটিভ, কবিতা ও গল্পে প্রয়োগ করা হয়।
উদাহরণ — একই তথ্য তিনভাবে:
প্রফেশনাল: “ফুলের ফলন ১০% বৃদ্ধি পেয়েছে; মাটি ও সেচ উন্নত করার ফলে এটি সম্ভব হয়েছে।”
বন্ধুসুলভ: “গত বছরে ফুল বেশি লেগেছে — মাটি ভালো করা আর একটু যত্ন দিলেই পারলাম!”
সাহিত্যিক: “বাগানের প্রতিটি কুঁড়ি এবার দু’চোখে হাসছে; মাটির মৃদু স্পর্শে জীবন ফিরে পেয়েছে।”

৩। কখন কোন ধারা ব্যবহার করবেন?

উদ্দেশ্য এবং পাঠক-দলের ওপর ভিত্তি করে ধারা বেছে নিন:

  • তথ্য/শিক্ষা:** প্রফেশনাল — নির্ভুল শব্দ, রেফারেন্স, নম্বর, উদাহরণ।
  • পাঠকসংযোগ:** বন্ধুসুলভ — গল্প, প্রশ্ন, সরল বাক্য।
  • অনুভূতি/শিল্প:** সাহিত্যিক — রূপক, বর্ণনা, ছন্দ।

নোট: বহু লেখাই মিশ্র ধারা ব্যবহার করে — মূল বক্তব্য প্রফেশনাল রেখে শুরুতে বন্ধুসুলভ হুক ও শেষে সাহিত্যিক উপখ্যান যোগ করা যায়।

৪। একই বিষয় ভিন্ন উদ্দেশ্যে কিভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করবেন

  1. উদ্দেশ্য নির্ধারণ: শিক্ষা, প্রফিট, অনুপ্রেরণা বা বিনোদন—প্রথমে ঠিক করুন।
  2. পাঠক চিনুন: তাঁদের ভাষা ও শব্দভাণ্ডার কেমন—তাই শব্দচয়ন নির্ধারণ করুন।
  3. শিরোনাম ও প্রথম বাক্য ঠিক করুন: টোন ৫–১০০ শব্দে সেট করে দেয়।
বিষয়: “কিভাবে সময় পরিচালনা করবেন” —
শিক্ষা: “সময় ব্লকিং পদ্ধতি ব্যবহার করুন: প্রতিটি কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করুন এবং বিরতি শিডিউল করুন।”
অনুপ্রেরণা: “সময় যেনো আপনার মিত্র—প্রত্যেক সকালকে অধিকার করুন।”
ব্যবসা: “রিপোর্টিং-এ সময় কমাতে অটোমেশন লাগান — এতে ২০% উৎপাদন বাড়ে।”

৫। ভোকাবুলারি ও বাক্যচয়নের কৌশল

শব্দ নির্বাচন লেখার কার্যকারিতা নির্ধারণ করে। কিছু দ্রুত কৌশল:

  • স্পষ্ট শব্দ বেছে নিন: জটিলতার বদলে নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করুন — “কার্যকর” বলুন “ভালো” নয়।
  • পাঠকের স্তর মিলিয়ে ভোকাবুলারি বাড়ান: 전문 পাঠক হলে টেকনিক্যাল শব্দ দিন, সাধারণ পাঠক হলে সহজ শব্দ রাখুন।
  • বিচিত্র বাক্য দৈর্ঘ্য রাখুন: ছোট বাক্য দ্রুততা বাড়ায়, বড় বাক্য ব্যাখ্যা দেয়।
  • একাধিক অর্থবহ শব্দ (power words) — “অত্যাবশ্যক”, “চূড়ান্ত”, “গুরুত্বপূর্ণ” ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ব্যবহার করুন, কিন্তু অতি কম।
সাদা কাগজ নিলে ৫টি বিকল্প শব্দ লিখুন — সেরা বেছে নিন।
এক বাক্যে অনুশীলন করুন: একই তথ্য ৩ভাবে বলুন।

৬। ব্যবহারিক টিপস — দ্রুত প্রয়োগযোগ্য

  • টোন শীট রাখুন: প্রতিটি পোস্টে ১-লাইন নোট—“টোন: বন্ধুসুলভ / প্রফেশনাল / সাহিত্যিক”।
  • শিরোনাম ও সাবহেডিং ব্যবহার করুন: স্ক্যানিং পাঠকের জন্য এটি সবচেয়ে দরকারী।
  • সম্পাদনা স্টেপগুলি আলাদা রাখুন: (১) কনটেন্ট, (২) টোন/স্টাইল, (৩) শব্দচয়ন।
  • রিড-আউট করুন: টোন টিকে কিভাবে শোনা যায় তা বুঝতে নিজে পড়ে শুনুন।

৭। দ্রুত চেকলিস্ট (Post-ready)

  • টোন কি লক্ষ্য অনুযায়ী সঠিক?
  • শব্দগুলো কি পাঠকের স্তরের সাথে মিলছে?
  • প্রারম্ভিক বাক্যে পাঠক আকৃষ্ট হচ্ছে কি?
  • প্রতিটি অনুচ্ছেদ এক টি ধারণা বলছে কি?

পরবর্তী পর্বে: শব্দ নির্বাচন ও শব্দভাণ্ডার গঠন — অনুশীলন ও রিসোর্সসহ।

📚 কী লিখবেন – সিরিজ

✍️ সহযোগিতায় ChatGPT by OpenAI

নিতাই বাবু

নিতাই বাবু

পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক – ২০১৭। লেখালেখির শুরু শৈশবে, এখনো চলছে।
মূলত সমাজ, সংস্কৃতি, স্মৃতিচারণা ও ছন্দনিবদ্ধ রচনায় আগ্রহী।
ভাষার শুদ্ধচর্চা ও সাহিত্যসমৃদ্ধ বাংলার প্রতি অগাধ ভালোবাসা।

🌐 ব্লগ: নিতাই বাবু ব্লগ | জীবনের ঘটনা | চ্যাটজিপিটি ভাবনা

পোস্টটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন:

Facebook Facebook Twitter Twitter WhatsApp WhatsApp Email Email
এই পোস্টটি পড়েছেন: 0 জন

Comments

Popular posts from this blog

ফটোগ্রাফি টিউটোরিয়াল সিরিজ — পর্ব ৩

ফটোগ্রাফি টিউটোরিয়াল সিরিজ — পর্ব ১

এই পৃথিবীতে কলমের আবিষ্কারের ইতিহাস

উচ্চ রক্তচাপ ও নিম্ন রক্তচাপ হলে করণীয় — পূর্ণাঙ্গ তথ্য

ব্লগ মডারেটর টিউটোরিয়াল সিরিজ – পর্ব ১০: জনপ্রিয় ব্লগ প্ল্যাটফর্মে মডারেশন (ব্লগার, ওয়ার্ডপ্রেস ইত্যাদি)