Posts

Showing posts with the label হিন্দু_দর্শন

শ্রীরাম কি মৃত্যুবরণ করেছিলেন?

Image
  🔱 শ্রীরাম কি মৃত্যুবরণ করেছিলেন? ভূমিকা: “রাম” শুধুমাত্র এক পৌরাণিক নায়ক নন, তিনি হিন্দুধর্মে এক দেবত্বপ্রাপ্ত অবতার। কিন্তু অনেকের মনে প্রশ্ন: শ্রীরাম কি সত্যিই মৃত্যুবরণ করেছিলেন? নাকি তাঁর অন্তর্ধান হয়েছে কোনো অলৌকিক উপায়ে? 📜 বাল্মীকির রামায়ণে শ্রীরামের অন্তর্ধান বাল্মীকির মূল রামায়ণে উল্লেখ আছে যে, লঙ্কা বিজয়ের পর রাম অযোধ্যায় ফিরে এসে বহু বছর রাজত্ব করেন। কিন্তু তাঁর প্রজাদের কুসন্দেহ ও সীতার প্রতি অবিচারবোধ তাঁকে মানসিকভাবে আহত করে। শেষদিকে, তিনি সরযু নদীর তীরে গিয়ে জলসমাধি গ্রহণ করেন। হিন্দু দর্শনে একে বলা হয় দেহত্যাগ নয়, বরং বিষ্ণুর ধামে ফিরে যাওয়া। 🕉️ বৈষ্ণব মত অনুযায়ী: হিন্দুধর্মের বৈষ্ণব মতবাদ অনুযায়ী, শ্রীরাম ছিলেন ভগবান বিষ্ণুর সপ্তম অবতার। সেই সূত্রে, তাঁর এই দেহত্যাগ ছিল শুধু ধরণীতে লীলার অবসান । তিনি স্বরূপে ফিরে গিয়েছিলেন বৈকুণ্ঠধামে । তাই তাঁকে "মৃত" বলা হয় না, বলা হয় "অন্তর্ধান" বা "লীলাবসান"। 📚 অন্যান্য ধর্মগ্রন্থে কী আছে? পদ্ম পুরাণ অনুযায়ী, রামচন্দ্র সশরীরে স্বর্গে গমন করেন। যোগবাসিষ্ঠ তাঁকে জ্ঞান ...

পৃথিবী সৃষ্টির আগে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড কেমন ছিল?

Image
  🌌 পৃথিবী সৃষ্টির আগে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড কেমন ছিল? মানুষের চিরন্তন কৌতূহল—এই মহাবিশ্বের সূচনার আগে কী ছিল? সময়, স্থান, পদার্থ—সব কিছুর জন্মের আগের সেই মুহূর্তটিতে কি আদৌ কিছু ছিল? নাকি ছিল এক অবর্ণনীয় শূন্যতা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছে বিজ্ঞান, দর্শন এবং ধর্ম—তবে প্রত্যেকের ব্যাখ্যা ভিন্ন। 🔬 ১. বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ – বিগ ব্যাং তত্ত্ব আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান বলছে, বিগ ব্যাং (Big Bang) নামক এক বিশাল বিস্ফোরণ থেকে এই মহাবিশ্বের সূচনা হয় প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে । বিগ ব্যাং-এর আগে ছিল "সিঙ্গুলারিটি" —এক অসীম ঘনত্ব ও তাপমাত্রার বিন্দু। এই বিন্দু থেকে সময় ও স্থানের উৎপত্তি ঘটে। অর্থাৎ "সময়" নিজেই শুরু হয় তখন । তাই “আগে কী ছিল?” —এ প্রশ্ন বিজ্ঞানের পরিভাষায় অর্থহীন, কারণ “আগে” নামক সময়ই তখন ছিল না। Stephen Hawking বলেছিলেন: “Asking what came before the Big Bang is like asking what is north of the North Pole.” 🕉️ ২. হিন্দু দর্শন – নাসদীয় সূক্তের দৃষ্টিতে হিন্দুধর্মে বিশ্বসৃষ্টির ধারণা অত্যন্ত প্রাচীন। ঋগ্বেদ -এর নাসদীয় সূক্ত (১০.১২৯) বলছে: ...

৩৩ কোটি দেবতা – সংখ্যায় নয়, তাৎপর্যে তেত্রিশ রকম শক্তির ব্যাখ্যা

Image
  🕉️ ৩৩ কোটি দেবতা বলতে আমরা কী বুঝি? সংস্কৃতে 'কোটি' শব্দের দুটি অর্থ রয়েছে—একটি ‘সর্বোচ্চ’ অর্থাৎ অসংখ্য, এবং অপরটি 'কোটি' অর্থে কোটি সংখ্যা (Crore) । বেদে তেত্রিশ কোটি (সংস্কৃত: ত্রয়স্তিমশতি কোটি) দেবতা বলতে আসলে তেত্রিশ রকমের প্রধান দেবতার কথা বলা হয়েছে। শতপথ ব্রাহ্মণ ও অথর্ববেদ -এর মতো গ্রন্থে একে সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। 📜 অথর্ববেদের উদ্ধৃতি: "যস্য ত্রয়স্ত্রিংশদ্ দেবা অঙ্গে সর্বে সমাহিতাঃ। স্কম্মং তং ব্রুহি কতমঃ স্বিদেব সঃ।।" অর্থ: পরম ঈশ্বরের প্রভাবে এই তেত্রিশ দেবতা বিশ্বকে বজায় রেখেছেন। 🔱 দেবতাদের শ্রেণিবিন্যাস: ১১ জন: পৃথিবীতে ১১ জন: বায়ুতে ১১ জন: মহাকাশে 🌞 দ্বাদশ আদিত্য (১২) : বিবস্বান, অর্য্যমান, পূষা, ত্বষ্টা, সবিতা, ভগ, ধাতা, বিষ্ণু, বরুণ, মিত্র, ইন্দ্র, অংশুমান 🌀 একাদশ রুদ্র (১১) : মন্যু, মনু, মহিনস, মহান, শিব, ঋতুধ্বজ, উগ্ররেতা, ভব, কাল, বামদেব, ধুতব্রত 📖 বৃহদারণ্যক উপনিষদ অনুযায়ী: প্রাণ (নিঃশ্বাস), অপান (প্রশ্বাস), ব্যন, সমান, উদান, নাগ, কুর্ম, কৃকল, দেবদত্ত, ধনঞ্জয় ও আত্মা ...