পৃথিবী সৃষ্টির আগে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড কেমন ছিল?

 

🌌 পৃথিবী সৃষ্টির আগে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড কেমন ছিল?

মানুষের চিরন্তন কৌতূহল—এই মহাবিশ্বের সূচনার আগে কী ছিল? সময়, স্থান, পদার্থ—সব কিছুর জন্মের আগের সেই মুহূর্তটিতে কি আদৌ কিছু ছিল? নাকি ছিল এক অবর্ণনীয় শূন্যতা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছে বিজ্ঞান, দর্শন এবং ধর্ম—তবে প্রত্যেকের ব্যাখ্যা ভিন্ন।


🔬 ১. বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ – বিগ ব্যাং তত্ত্ব

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান বলছে, বিগ ব্যাং (Big Bang) নামক এক বিশাল বিস্ফোরণ থেকে এই মহাবিশ্বের সূচনা হয় প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে

  • বিগ ব্যাং-এর আগে ছিল "সিঙ্গুলারিটি"—এক অসীম ঘনত্ব ও তাপমাত্রার বিন্দু।
  • এই বিন্দু থেকে সময় ও স্থানের উৎপত্তি ঘটে। অর্থাৎ "সময়" নিজেই শুরু হয় তখন
  • তাই “আগে কী ছিল?” —এ প্রশ্ন বিজ্ঞানের পরিভাষায় অর্থহীন, কারণ “আগে” নামক সময়ই তখন ছিল না।
Stephen Hawking বলেছিলেন: “Asking what came before the Big Bang is like asking what is north of the North Pole.”

🕉️ ২. হিন্দু দর্শন – নাসদীয় সূক্তের দৃষ্টিতে

হিন্দুধর্মে বিশ্বসৃষ্টির ধারণা অত্যন্ত প্রাচীন। ঋগ্বেদ-এর নাসদীয় সূক্ত (১০.১২৯) বলছে:

“না আসৎ, না সদাসীত্ তদানীম্...”
— অর্থাৎ: না ছিল অস্তিত্ব, না ছিল অনস্তিত্ব। সবই ছিল এক রূপহীন অবস্থা।

এই রূপহীন অবস্থাকে বলা হয় “পরব্রহ্ম” বা “প্রকৃতির অপ্রকাশিত রূপ”। তখন ছিল না আকাশ, না বাতাস, না আলো, না অন্ধকার। কেবল ছিল নিঃশব্দ চেতন এক মহাশক্তি—যা পরবর্তীতে সৃষ্টি, সংহার ও স্থিতির কারণ হয়ে ওঠে।


☸️ ৩. বৌদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি – অনন্ত চক্রের তত্ত্ব

বৌদ্ধ ধর্মে কোনো নির্দিষ্ট “সৃষ্টির শুরু” নেই। বরং, এই বিশ্বজগত নিরবচ্ছিন্ন এক সৃষ্টি ও বিনাশের চক্র

  • সমস্ত কিছু ঘটে “কার্যকারণ সম্পর্ক” (প্রতীত্যসমুত্পাদ) অনুযায়ী।
  • সৃষ্টিকর্তা নয়, বরং নিরন্তর পরিবর্তনশীল ধর্মধাতু হলো এই বিশ্বচরাচরের চালিকা শক্তি।
  • শূন্যতা (শূন্যতা তত্ত্ব) ও অনিত্যতা বৌদ্ধ দৃষ্টিতে মুখ্য।

💭 ৪. দার্শনিক দৃষ্টিকোণ – শূন্যতা মানেই কি শূন্য?

দার্শনিকরা বলেন, শূন্যতা (Nothingness) আদৌ "কিছু না" নয়। এটা এক ধরনের সম্ভাবনার স্তর।

  • জার্মান দার্শনিক হাইডেগারসার্ত্র বলেন: “শূন্যতা মানেই অস্তিত্বের অনুপস্থিতি নয়—এটি একরকম অস্তিত্ব।”
  • অনেকেই মনে করেন, “কিছু না থাকাও” একটি মেটাফিজিক্যাল অবস্থা

🔎 ৫. কল্পনা ও কবিতার চোখে

অনেকে মনে করেন, বিশ্বসৃষ্টির পূর্বমুহূর্তটি ছিল:

  • একটা নিঃশব্দ অন্ধকারে নিমগ্ন অদৃশ্যতা
  • যেখানে কাঁপছিল এক অসীম সম্ভাবনার স্পন্দন
  • ছিল না আলো, তবু এক চেতনা ধীরে ধীরে নিজেকে খুঁজছিল

সেই চেতনা-ই পরে "আমি" হয়ে উঠল, “জগত” হয়ে উঠল!


📘 উপসংহার

এই প্রশ্নের শেষ উত্তর নেই। বিজ্ঞান চায় প্রমাণ, ধর্ম চায় বিশ্বাস, দর্শন খোঁজে ভাবনা, আর মন চায় কিছু অনুভব করতে। পৃথিবী সৃষ্টি হওয়ার আগে কী ছিল—সে এক চেতনার শূন্যতা, সম্ভাবনার নীরবতা, অথবা অচিন্ত্য এক গূঢ় রহস্য—যা আমাদের বারবার টানে অস্তিত্বের উৎস সন্ধানে।

✍️ লেখা: নিতাই বাবু
🤖 সহযোগিতায় ও ব্লগ ডিজাইন: ChatGPT by OpenAI

নিতাই বাবু

নিতাই বাবু

পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক – ২০১৭। লেখালেখির শুরু শৈশবে, এখনো চলছে।
মূলত সমাজ, সংস্কৃতি, স্মৃতিচারণা ও ছন্দনিবদ্ধ রচনায় আগ্রহী।
ভাষার শুদ্ধচর্চা ও সাহিত্যসমৃদ্ধ বাংলার প্রতি অগাধ ভালোবাসা।

🌐 ব্লগ: নিতাই বাবু ব্লগ | জীবনের ঘটনা | চ্যাটজিপিটি ভাবনা

পোস্টটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন:

Facebook Facebook Twitter Twitter WhatsApp WhatsApp Email Email

Comments