দুর্গাপূজায় কলাবউ বা নবপত্রিকা – অর্থ, প্রতীক ও পূজার নিয়ম
🔱 দুর্গাপূজায় কলাবউ বা নবপত্রিকা – মাহাত্ম্য, প্রতীক ও তাৎপর্য
শারদীয় দুর্গোৎসবে একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অনেকের চোখে পড়ে না এমন একটি আচার হলো কলাবউ স্নান ও স্থাপন। এটি মূলত নবপত্রিকা নামেই পরিচিত, এবং এটি ষষ্ঠীর দিন ভোরবেলায় সম্পন্ন হয়। কলাবউ দুর্গাদেবীর একটি প্রতীকী রূপ, কখনো কখনো তাঁকে দেবী গণেশের 'বৌ' (স্ত্রী) বলেও লোকমুখে অভিহিত করা হয়, যদিও তা পৌরাণিকভাবে সঠিক নয়।
🌿 নবপত্রিকা কী?
নবপত্রিকা শব্দের অর্থ—নতুন নয়টি পত্র বা গাছের সমন্বয়ে গঠিত একটি পবিত্র প্রতীক। এই নয়টি উদ্ভিদের মধ্যে প্রতিটি একটি করে দেবী রূপকে প্রতীক করে:
- কলাগাছ — দেবী ব্রহ্মাণী
- কচুগাছ — দেবী কলিকা
- হরিদ্রা (হলুদের গাছ) — দেবী দুর্গা
- জয়ন্তী গাছ — দেবী কার্ত্যায়নী
- বেল গাছ — দেবী শিবানী
- আশ্বত্থ গাছ — দেবী ব্রহ্মী
- দাড়িম গাছ — দেবী রক্তদন্তিকা
- মানমানি গাছ — দেবী চণ্ডী
- ধানের গুচ্ছ — দেবী লক্ষ্মী
এই নয়টি উদ্ভিদ একত্রে কলাগাছের সাথে বাঁধা হয়, এবং স্নান করিয়ে শাড়ি পরিয়ে তা দুর্গাদেবীর পাশে স্থাপন করা হয়।
👘 কেন কলাবউকে শাড়ি পরানো হয়?
কলাবউকে সাধারণত সাদা-লাল পাড়ের শাড়ি পরানো হয়, যা বাংলার নারীত্ব ও পবিত্রতার প্রতীক। এটির মাধ্যমে কলাবউকে জীবন্ত দেবী রূপে উপস্থাপন করা হয়। শাড়ি পরানো ও নবপত্রিকাকে গৃহিণীরূপে উপস্থাপন করার মধ্য দিয়ে প্রকৃতিকে মা রূপে পূজা করার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত প্রতিফলিত হয়।
💫 কলাবউ কি সত্যিই গণেশের স্ত্রী?
লোককথায় কখনো কখনো কলাবউকে গণেশের স্ত্রী বলা হয়, কিন্তু শাস্ত্রীয় ও পুরাণ অনুযায়ী এটি সঠিক নয়। এটি মূলত একটি লোকবিশ্বাস, যা বাংলার সংস্কৃতির সাথে মিশে গেছে। শাস্ত্রমতে, কলাবউ হলো নবপত্রিকা, এবং এই নবপত্রিকা দেবী দুর্গার নয়টি শক্তির প্রতীক।
🌾 নবপত্রিকা স্নান ও স্থাপনের প্রক্রিয়া
- ষষ্ঠীর দিন ভোরে গঙ্গা বা পবিত্র জলাশয়ে নবপত্রিকাকে স্নান করানো হয়।
- তারপর কলাগাছ সহ সমগ্র গুচ্ছটিকে নতুন শাড়ি পরানো হয়।
- পরবর্তীতে এটি দুর্গামূর্তির ডান দিকে স্থাপন করা হয়।
🔮 প্রতীকি ব্যাখ্যা
নবপত্রিকা বা কলাবউ হচ্ছে প্রকৃতির নবচেতন শক্তির প্রতীক। বাংলার কৃষিভিত্তিক সমাজে এই গাছগুলির প্রতিটি এক একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই প্রকৃতির উপাদানকে দেবীরূপে পূজা করা মানেই হচ্ছে মাটিকে, ফসলকে, জলকে ও উদ্ভিদকে সম্মান জানানো।
📚 উপসংহার
কলাবউ বা নবপত্রিকা পূজা শুধুমাত্র একটি রীতি নয়, বরং এটি বাংলার লোকজ সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রকৃতির উপাদানকে মা জ্ঞানে পূজা করার এই প্রথা একদিকে যেমন ধর্মীয় তাৎপর্য বহন করে, অন্যদিকে তেমনই পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করে।
তথ্যসূত্র: দেবীপূজা তন্ত্র, ব্রতকথা, লোকজ সংস্কৃতি সংকলন।
সহযোগিতায় ও ব্লগ ডিজাইন: ChatGPT, OpenAI
|
নিতাই বাবু
পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক – ২০১৭। লেখালেখির শুরু শৈশবে, এখনো চলছে। 🌐 ব্লগ: নিতাই বাবু ব্লগ | জীবনের ঘটনা | চ্যাটজিপিটি ভাবনা |

Comments
Post a Comment