ধর্ম কী এবং মানুষ বেঁচে থাকতে ধর্মের প্রয়োজনীয়তা কেন?

 

🕉️ ধর্ম কী এবং মানুষ বেঁচে থাকতে ধর্মের প্রয়োজনীয়তা কেন?

‘ধর্ম’ শব্দটি কেবল একটি বিশ্বাসের নাম নয়—এটি এক জীবনবোধ, নৈতিক কাঠামো, এক আত্ম-অনুসন্ধানের পথ। সংস্কৃতে ‘ধৃ’ ধাতু থেকে ধর্ম শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ "ধারণ করা"। সুতরাং ধর্ম হলো যা জীবনের ভার বহন করে, মানুষকে সঠিক পথে চালিত করে এবং জগতের ভারসাম্য রক্ষা করে।


📘 ধর্ম মানে কী?

ধর্ম মানে:

  • ✔️ জীবনের সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা
  • ✔️ সত্য ও ন্যায়ের প্রতি আস্থা রাখা
  • ✔️ সহমর্মিতা, সংযম ও করুণার মাধ্যমে জীবনযাপন করা
  • ✔️ আত্মা, সৃষ্টিকর্তা ও বিশ্বের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক অনুধাবন করা

ধর্ম কেবল পূজা-পাঠ নয়, এটি এক নৈতিক, আধ্যাত্মিক ও সামাজিক জীবনদর্শন যা মানুষের ভিতর থেকে তাকে মানব করে তোলে। সকল ধর্মই মূলত শান্তি, সহাবস্থান ও পরম সত্যের দিকে আহ্বান জানায়।


🌿 ধর্ম কেন প্রয়োজন?

ধর্মের প্রয়োজনীয়তা মানুষ যখন বুঝতে পারে, তখন সে বুঝতে পারে—তার ভেতরের সংকট, সমাজের সমস্যাগুলো কেবল আইন দিয়ে নয়, নৈতিকতায়ও সমাধান করতে হয়। নিচে ধর্মের কিছু প্রধান প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হলো:

১. নৈতিকতা গড়ে তোলে

ধর্ম শেখায়—চুরি, মিথ্যা, হিংসা খারাপ; সততা, দয়া, সহনশীলতা ভালো। শিশু বয়স থেকেই ধর্মীয় শিক্ষায় মানুষ এই মূল্যবোধ গড়ে তোলে।

২. আত্মসংযমের অভ্যাস গড়ে দেয়

অত্যধিক ভোগ, হিংসা, রাগ—এগুলো থেকে বিরত থাকতে শেখায় ধর্ম। যেমন উপবাস, প্রার্থনা, ধ্যান ইত্যাদি মানসিক নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

৩. সমাজে শৃঙ্খলা আনে

একজন ধার্মিক ব্যক্তি আইন ভাঙ্গার চেয়ে পাপ করতে ভয় পায়। এতে সমাজে আভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ তৈরি হয়, যা শুধু আইন দিয়ে সম্ভব নয়।

৪. পরোপকার ও সহমর্মিতা শেখায়

ধর্ম মানুষকে শেখায়—পরের কষ্ট বুঝতে, সাহায্য করতে, করুণা করতে। "জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর"—এই ভাবনাই ধর্মের মূল।

৫. আত্মজ্ঞান ও চেতনার উন্মেষ ঘটায়

আমি কে? কোথা থেকে এলাম? আমার কর্তব্য কী? ধর্ম এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে সাহায্য করে। এটি এক অনন্ত যাত্রার দিশারি।

৬. মৃত্যুর পরবর্তী জীবন সম্পর্কে ধারণা দেয়

ধর্ম মানুষকে আশ্বাস দেয় যে, মৃত্যুই সব নয়। পুনর্জন্ম, আত্মা, পরকাল—এসব ধারণা মানুষকে আত্মিক শক্তি ও মানসিক স্থিতি দেয়।


🔍 ধর্ম না থাকলে কী হতো?

একটা সমাজ যেখানে আইন আছে কিন্তু নৈতিকতা নেই—সেখানে শুধু ভয়েই মানুষ নিয়ন্ত্রিত হয়, কিন্তু তা স্থায়ী নয়। ধর্ম না থাকলে সমাজে ভোগবাদ, হিংসা, স্বার্থপরতা বেড়ে যেত। আত্মনিয়ন্ত্রণ ও আত্মবোধের অভাবে মানুষ পশুত্বের দিকে ঝুঁকত।

অধর্মের বিস্তার মানেই অস্থিরতা, হিংসা ও বিশৃঙ্খলার বিস্তার।


🧭 উপসংহার

ধর্ম কোনো একক জাতি, গোষ্ঠী বা মতের বিষয় নয়। এটি মানবতার গভীর উপলব্ধি। মানুষ ধর্ম মানুক বা না মানুক, কিন্তু ধর্মীয় চেতনা থাকলে তার চিন্তা-চেতনা, কর্ম ও আচরণে সত্য, সহমর্মিতা ও মানবিকতা ফুটে ওঠে।

আধুনিক যুগে ধর্মকে ঘৃণা বা অন্ধ অনুসরণের বদলে বিবেকের আলোয় বুঝে গ্রহণ করা জরুরি। তাহলেই ধর্ম হবে জীবনের অঙ্গ, মনুষ্যত্বের বাহক।

✍️ লেখক: নিতাই বাবু
সহযোগিতায় ও ব্লগ ডিজাইন: ChatGPT by OpenAI


নিতাই বাবু

নিতাই বাবু

পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক – ২০১৭। লেখালেখির শুরু শৈশবে, এখনো চলছে।
মূলত সমাজ, সংস্কৃতি, স্মৃতিচারণা ও ছন্দনিবদ্ধ রচনায় আগ্রহী।
ভাষার শুদ্ধচর্চা ও সাহিত্যসমৃদ্ধ বাংলার প্রতি অগাধ ভালোবাসা।

🌐 ব্লগ: নিতাই বাবু ব্লগ | জীবনের ঘটনা | চ্যাটজিপিটি ভাবনা

পোস্টটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন:

Facebook Facebook Twitter Twitter WhatsApp WhatsApp Email Email

Comments

Popular posts from this blog

ফটোগ্রাফি টিউটোরিয়াল সিরিজ — পর্ব ৩

ফটোগ্রাফি টিউটোরিয়াল সিরিজ — পর্ব ১

এই পৃথিবীতে কলমের আবিষ্কারের ইতিহাস

উচ্চ রক্তচাপ ও নিম্ন রক্তচাপ হলে করণীয় — পূর্ণাঙ্গ তথ্য

ব্লগ মডারেটর টিউটোরিয়াল সিরিজ – পর্ব ১০: জনপ্রিয় ব্লগ প্ল্যাটফর্মে মডারেশন (ব্লগার, ওয়ার্ডপ্রেস ইত্যাদি)